• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

মহান বিজয় দিবস ২০২৫ news.mshop.com.bd-এর বিশেষ নিবন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

মহান বিজয় দিবস ২০২৫
news.mshop.com.bd-এর বিশেষ নিবন্ধ

নেত্রবাংলা সম্পাদকীয় বিভাগ :

১৬ ডিসেম্বর-বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি অর্জন করে তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র-বাংলাদেশ। তাই মহান বিজয় দিবস কেবল একটি তারিখ নয়; এটি আমাদের অস্তিত্ব, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় চেতনার প্রতীক।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির ওপর দীর্ঘদিনের শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা ও গণঅভ্যুত্থান-সব সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল এই মহান মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশের মানুষ জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত এবং দুই লাখের বেশি মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় এই বিজয়।

মহান বিজয় দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের কথা। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, নারী-পুরুষ-সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নে। এই বিজয় ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের, অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর বিজয়।

২০২৫ সালে এসে মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার সময় এসেছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে অনেক দূর এগিয়েছে। তবে বিজয়ের প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আমরা বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার-বাস্তবায়ন করাই হবে বিজয় দিবসের প্রকৃত সম্মান।

মহান বিজয় দিবস আমাদের জন্য কেবল আনন্দ ও উৎসবের দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনা ও দায়িত্ববোধের দিনও। স্বাধীনতার সুফল যেন দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম শর্ত।

মহান বিজয় দিবস আমাদের শিখিয়ে দেয়-একটি জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো শক্তিই তাকে পরাজিত করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের সেই ঐক্য, সাহস ও আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশের পথে।

নেত্রবাংলা বিশ্বাস করে, মহান বিজয় দিবসের আদর্শ বুকে ধারণ করে আমরা সবাই মিলে দেশকে আরও সুন্দর ও শক্তিশালী করে তুলব। এটাই হবে শহীদদের প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।

news.mshop.com.bd

আরও পড়ুন

  • আন্তর্জাতিক এর আরও খবর