
নারী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আন্দোলনের
অগ্রদূত বেগম রোকেয়া (মস্তুরা) আর নেই
নিজস্ব সংবাদদাতা | নেত্রবাংলা
নারী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত, বিশিষ্ট সমাজসেবিকা বেগম রোকেয়া ওরফে মস্তুরা (৭৮) আর নেই। তিনি শুক্রবার (—) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোমের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি দুই কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল জানান, তাঁর মরদেহ শিগগিরই নেত্রকোনায় এনে দাফন করা হবে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের নারী জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত বেগম রোকেয়া ১৯৪৮ সালের ১৭ মে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কাউরাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র অষ্টম শ্রেণির পাঠ শেষ করেই তাঁকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়। পরবর্তীতে দুই কন্যার জন্মের পর তিনি তালাকপ্রাপ্তা হন। জীবনসংগ্রামের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে আবারও পড়াশোনা শুরু করে তিনি বিএ ও বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৯ সালে তিনি নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতার পর ১৯৮৫ সালে তিনি এ পেশা থেকে অবসর নিয়ে সমমনা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি (এসইউএস)। সংস্থাটি ১৯৮৬ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ১৯৯০ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমানে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সংস্থাটির বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সমাজসেবায় নিবেদিত এই জীবনসংগ্রামী নারী বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন বোর্ড, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সার্ভিস সিভিল ইন্টারন্যাশনাল (এসসিআই), নেত্রকোনা সমাজকল্যাণ সংস্থা, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, নেত্রকোনা চক্ষু হাসপাতালসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশ ভ্রমণ করেন এবং অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সভা-সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। নারী উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারে তাঁর অবদান তাঁকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
বেগম রোকেয়ার মৃত্যুতে স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রওশন আখতার, নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পালসহ নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :