• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯ মে, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৯ মে, ২০২৫

সম্পাদকীয় | সাবেক রাষ্ট্রপতির দেশত্যাগ: ব্যক্তিগত অসুস্থতা না রাজনৈতিক অস্থিরতার পরোক্ষ প্রতিক্রিয়া?

অনলাইন ডেস্ক
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"ai_enhance":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

নেত্রবাংলা সম্পাদকীয়ঃ বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্প্রতি বিদেশ গমন করেছেন। প্রথম দৃষ্টিতে এটি তার দীর্ঘদিনের পরিচিত চিকিৎসাজনিত সফর বলেই মনে হলেও, সময় ও প্রেক্ষাপটের কারণে এই সফর নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি অসুস্থ—এটি সত্য, তবে আরও কিছু প্রসঙ্গ সামনে আসায় বিষয়টি ঘোলাটে হয়ে উঠেছে।

 

একদিকে মো. আবদুল হামিদের শরীরিক অবস্থা বেশ কয়েক বছর ধরেই নাজুক। তিনি নিয়মিত সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে তাঁর বিদেশ যাত্রা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এবার এই সফরের সময়কাল ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কারণ তাঁর প্রবাস যাত্রার প্রায় একই সময়ে তাঁর পুত্র—কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও পরিবারের আরও কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে, যা বিচারাধীন।

 

প্রসঙ্গত, অভিযোগ উঠেছে—ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ হাওর অঞ্চলের কিছু সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার। এসব অভিযোগ বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন। এমতাবস্থায়, সাবেক রাষ্ট্রপতির সফর কেবল একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক রুটিন সফর, না কি পরিবারের ওপর চাপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিরব নির্জনে অবস্থান—তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

 

এছাড়া দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন উত্তপ্ত। নির্বাচনোত্তর বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আস্থা ও সহনশীলতার ঘাটতি প্রকট। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে এক সময় দায়িত্ব পালনকারী একজন নেতার নিজ দেশে নিরাপদ না থেকে বিদেশে অবস্থান করা—সে দেশের গণতন্ত্রের জন্য সুখকর বার্তা নয়।

 

অবশ্য এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে যে, মো. আবদুল হামিদ বরাবরই একজন আপসহীন, শান্তস্বভাবের নেতা ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন কেটেছে নিষ্কলুষভাবে। রাষ্ট্রপতির মতো নিরপেক্ষ পদে থেকে তিনি দলীয় সীমারেখা অতিক্রম করে একজন গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর দেশত্যাগকে তাই কেবল একটি ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।

 

উপসংহার: সাবেক রাষ্ট্রপতির এই দেশত্যাগ—যদিও ব্যক্তিগত চিকিৎসা সফর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—তার পরিপ্রেক্ষিতকে অগ্রাহ্য করা যায় না। পরিবার ও স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা, দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শাসকগোষ্ঠীর প্রতি বেড়ে চলা জনআস্থা সংকট মিলিয়ে এটি একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।

 

রাষ্ট্রকে এখন দায়িত্বশীল হতে হবে—সাবেক রাষ্ট্রপতির সম্মান, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রীয় কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। একইসঙ্গে, তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন। রাষ্ট্রের এই ভারসাম্যই প্রমাণ করবে—বাংলাদেশ একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি না।

 

সম্পাদক-পিয়াস আহমদ

আরও পড়ুন

  • সম্পাদকীয় এর আরও খবর