• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের যাকাত পেয়ে নেত্রকোনার খোকন এখন স্বাবলম্বী

অনলাইন ডেস্ক

নেত্রবাংলা অনলাইন ডেস্কঃ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের যাকাত পেয়ে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামের খোকন মিয়া এখন স্বাবলম্বী।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা দেশ বরেণ্য ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর ফেসবুকে পেইজে বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল/২০২৫) সন্ধ্যা ৬:৫৪ মিনিটে পোষ্ট করে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। দর্শকের সুবিধার্থে তাঁর পোষ্টের হুবহু তুলে ধরেছে নেত্রবাংলা অনলাইন ডেস্ক।

 

আজ দুপুরে ফোনের ওপাশ থেকে তিনি উচ্ছ্বাসমাখা কণ্ঠে বললেন, গতকাল আপনাদের দেয়া হোটেল থেকে ১৪ হাজার টাকার বেচাকেনা করেছি!

 

যে হোটেলের পথচলা শুরু হয়েছে গেল ফেব্রুয়ারিতে, আড়াই মাসের মাথায় সেই হোটেলের এমন সাফল্যে আমরা বিস্মিত এবং উচ্ছ্বসিত।

 

বলছি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামের খোকন মিয়ার কথা।

 

বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে খোকন মিয়াকে এক সময় অভাবের সাথে যুদ্ধ করতে হতো। তখন অন্যের হোটেলে কাজ করতেন তিনি। মাসিক আয় ছিল ছয় থেকে সাত হাজার টাকা।

 

ভিটের জমিটুকু ছাড়া তার নেই কোনো ফসলী জমিও। তবে যা আছে তা হলো, রকমারি খাবার তৈরির দক্ষতা।

 

এই দক্ষতাকে পুঁজি করে তিনি আমাদের দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পে আবেদন করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর গৃহীত হয় তার আবেদন।

 

হোটেলের জন্য দোকান ভাড়া, ডেকোরেশন, মালামাল ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য তিন ধাপে তাকে দেয়া হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

 

হোটেলের জন্য তিনি নির্বাচন করেছেন মূল সড়কের পাশে এমন এক স্থান, যেখানে আছে কাঁচাবাজারের আড়ৎ, কয়েকটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। ফলে হোটেল চালুর দিন থেকেই তার কাস্টমারের অভাব হচ্ছে না।

ভোরে হোটেল খুলেই তিনি বানান পরোটা, সবজি, ডাল। দুপুর এবং রাতে করেন সাদা ভাত, মাংস, কয়েক পদের মাছ, সবজি, ডাল। আবার বিকেলে থাকে মোগলাই, হালিম, সিঙ্গাড়া, পুরি, সমুচা ইত্যাদি।

 

হোটেল চলে ভোর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। আড়তের লোকজন তার প্রধান কাস্টমার।

 

খোকন মিয়ার জীবন এখন একেবারেই অন্যরকম। গত রমাদানে প্রতিদিন তিনি চার-পাঁচ হাজার টাকার ইফতার বিক্রি করেছেন। এখন প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার টাকার বেচাকেনা করছেন।

 

কিছুদিন আগেও যিনি ছিলেন অন্যের কর্মচারী, মাসে আয় করতেন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা; এখন তার দৈনিক আয়ই প্রায় ৫ হাজার টাকা। হোটলেটার মাধ্যমে তার নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তো হয়েছেই, তিনি আরো তিনজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

তার প্রত্যয় এমন-যাকাতের টাকায় গড়ে ওঠা হোটেল ব্যবসার মাধ্যমে খুব শিগগিরই তিনি যাকাতদাতা হয়ে উঠতে চান।

 

খোকন মিয়ার এই সাফল্যে আমরা বিমোহিত এবং উদ্দীপিত।

আরও পড়ুন