
বারহাট্টায় বিজিএফ চাল বিতরণের অনিয়মের অভিযোগ
নেত্রবাংলা অনলাইন ডেস্কঃ
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আসমা ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও উপকারভোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে চাল নিতে এসে অনেক কার্ডধারী খালি হাতে ফিরে যান। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ১০ কেজির বরাদ্দের স্থলে প্রায় দুইশো গ্রাম কম দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য উপকারভোগীদের স্লিপ ছিঁড়ে দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, আসমা ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার উপকারভোগীর মধ্যে এই অনিয়ম দেখা গেছে। বিতরণের সময় অনেকেই চাল পাননি। বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ময়না মেম্বারসহ অন্যান্য ইউপি সদস্যরা তাদের কাছ থেকে স্লিপ নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলেছেন। নারী উপকারভোগীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের পুরো বরাদ্দের বদলে অর্ধেক বালতি চাল দেওয়া হয়েছে।
চাল বিতরণের সময় কার্ড থাকা সত্ত্বেও বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে হৈচৈ শুরু করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং দাবি করেন, কার্ড নিয়ে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকলে ইউপি কর্মকর্তারা লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আশ্বস্ত করেন, “আমরা দুই ঘণ্টার মধ্যে চালের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি তিন হাজার উপকারভোগীর প্রত্যেককে প্রায় দুইশো গ্রাম কম দেওয়া হয়, তবে প্রায় ৬০০ কেজি চাল কোথায় গেছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদটি নিশ্চিত করতে আসমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বারহাট্টা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান ফোনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। বারহাট্টা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফোন রিসিভ না করার কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে নেত্রকোনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার জানান, উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ ইউএনওদের মাধ্যমে ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়। বিতরণের মনিটরিং ইউএনওদের দায়িত্বে থাকে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রশাসন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে ইউএনও বারহাট্টাকে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :