

যুদ্ধবিমানটা পড়েনি, এক শহীদের নাম আকাশে লেখা হয়েছে
নেত্রবাংলা অনলাইন ডেস্ক: আজ ছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দিন-Solo Flight Mission। এই একটি মিশনেই বোঝা যায়, কে আকাশের আসল অধিপতি-কোনো প্রশিক্ষক বা কো-পাইলট নয়, একা একজন যোদ্ধার নির্ভেজাল আকাশজয়ের লড়াই। তৌকিরও সে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। F-7BGI যুদ্ধবিমান নিয়ে উড়াল দেন কুর্মিটোলা পুরাতন বিমানঘাঁটি থেকে। উড়ছিলেন দিয়াবাড়ি, উত্তরা, বাড্ডা, হাতিরঝিল হয়ে জনবহুল আকাশের ওপরে। হঠাৎই তৌকির কন্ট্রোল রুমে জানান-বিমান নিচের দিকে যাচ্ছে, আর ভাসছে না। নির্দেশ আসে-ইজেক্ট করুন। কিন্তু তৌকির ইজেক্ট করেননি। তাঁর নিচে ছিল স্কুল, জনপদ, অসংখ্য নিরীহ মানুষ। তিনি নিজের জীবন নয়, বাঁচাতে চেয়েছিলেন অন্যদের। বিমানটিকে ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তিনি। মাত্র এক-দেড় মিনিটের ব্যবধানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিধ্বস্ত হয় যুদ্ধবিমানটি। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির শহীদ হন। অল্পের জন্য রক্ষা পায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষ। প্রশ্ন ওঠে-১৯৭৬ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ যুদ্ধবিমান কেন এখনো ব্যবহৃত হচ্ছিল? কেন জনবহুল এলাকায় এমন স্পর্শকাতর মিশন? একজন তরুণ পাইলট নিজের জীবন দিয়ে কী শুধু রাষ্ট্রের ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করলেন? এ মৃত্যু শুধুই দুর্ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। দুর্ঘটনার পর এক শিশু দৌড়ে এসে বলেছিল-“স্যার, এই মানুষটার নাম কী?”-তার নাম ছিল তৌকির। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির আহমেদ। এই নাম যেন লেখা থাকে আকাশে। রাষ্ট্র যদি তাঁকে রক্ষা করতে না-ও পারে, অন্তত এই প্রশ্নটি যেন করে-তৌকিরকে বাঁচাতে পারলাম না, আগামী প্রজন্মকে কি পারব?
আপনার মতামত লিখুন :