
নেত্রবাংলা অনলাইন ডেস্কঃ আজ ১ জুন, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মিয়ার ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিঁনি ১৯৩০ সালের ১ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার জামিরতা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিঁনি পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তিঁনি দৃঢ় সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। নিজের দায়িত্বে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেন এবং মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের হলদিবাড়ি গিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করেন।
অস্ত্র নিয়ে ফেরার পথে তাঁর নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর একটি দল চৌকিভাজনি (ডাঙ্গাপাড়া) এলাকায় পাক হানাদার ও রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই যুদ্ধে তিঁনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরবর্তীতে ব্রুজের ডাঙ্গা নামক স্থানে তাঁকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯৯ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাঁর নামে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়। ২০১০ সালে তাঁর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে শাহজাদপুরের ডায়া থেকে জামিরতা পর্যন্ত একটি রাস্তার নামকরণ করা হয় তাঁর নামে। পরে ২০২১ সালে সরকারিভাবে তাঁকে শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ পারিবারিকভাবে শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় তাঁর নিজ বাড়িতে এবং কর্মস্থল দেবিগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

শহীদের ছোট ছেলে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সামিউল আলম পিপিএম সকলের কাছে দোয়ার অনুরোধ জানিয় বলেন,”আল্লাহ তায়োলা যেন আমার বাবার শাহাদাতকে কবুল করেন এবং তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন-এই দোয়া সকলের নিকট কামনা করছি। আমিন।”
আপনার মতামত লিখুন :