

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি
✍️ পিয়াস আহমদ | নেত্রবাংলা
শতবর্ষের ঐতিহ্যের ধারক ‘বালিশ মিষ্টি’। নেত্রকোনার এই অনন্য মিষ্টি এবার দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেল। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
উৎপত্তি ও ঐতিহ্য
নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোডেই বালিশ মিষ্টির উৎপত্তি। প্রায় ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নাম হয় ‘বালিশ মিষ্টি’।
এটি সাধারণ সন্দেশ বা রসগোল্লার মতো নয়; বরং স্বাদে ও গঠনে একেবারেই ভিন্ন। বর্তমানে সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব কিংবা উপহার-সব জায়গাতেই এর চাহিদা ব্যাপক।
বর্তমানে গয়ানাথ ঘোষের তৃতীয় প্রজন্ম এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কর্ণধার বাবুল চন্দ্র মোদক বলেন-
> “বালিশ মিষ্টি জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। দাদার হাতে শুরু হওয়া এই মিষ্টি আজ দেশের গৌরবের প্রতীকে পরিণত হলো।”
স্বীকৃতির যাত্রা
২০২৩ সালে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বালিশ মিষ্টির জিআই স্বীকৃতির জন্য ডিপিডিটিতে আবেদন করা হয়। পণ্যের ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বিস্তৃত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন-
“এর আগে বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই সনদ পেয়েছিল। এবার বালিশ মিষ্টি যুক্ত হওয়ায় নেত্রকোনাবাসীর গর্ব আরও বেড়ে গেল। আমরা এটিকে জেলার ব্র্যান্ডিং হিসেবে তুলে ধরব।”
নেত্রকোনার দ্বিতীয় জিআই পণ্য
এর আগে ২০২১ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই স্বীকৃতি পায়। এবার বালিশ মিষ্টি যুক্ত হওয়ায় জেলায় গৌরবের নতুন মাত্রা যোগ হলো।
শত বছর আগে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি আজ শুধু স্থানীয় স্বাদেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ঐতিহ্যের মিষ্টি প্রতীক’ হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :